প্লাস্টিক ধ্বংস হবে ব্যাকটেরিয়ায়

‘প্লাস্টিক দূষণ’ বর্তমান পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় বিপর্যয়ের নাম। প্লাস্টিকদ্রব্যের ব্যবহারে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গোটা জীবজগতের ওপর নেমে আসছে এক ধরনের বিরূপ প্রভাব। প্লাস্টিকজাতীয় দ্রব্যের বড় সমস্যা হচ্ছে এগুলো সহজে রিসাইকেল করা যায় না, এমনকি প্লাস্টিক সহজে মাটির সাথে মেশে না কিংবা সহজে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না। তাই দীর্ঘদিন এগুলো পরিবেশে অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে যেতে পারে।

বিশ্বের অনেক দেশই ইতোমধ্যে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তারপরও পুরোপুরিভাবে প্লাস্টিকের বিকল্প কোনো পদার্থের সহজলভ্যতা না থাকায় এর ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে সম্প্রতি হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইকোনোমিকসের দুই তরুণ নারী গবেষক লিজ মাদারাস ও ক্রিস্টিনা লেভাই এমন এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেলের উদ্ভাবন করেছেন যা সহজে প্লাস্টিকজাতীয় জিনিস ধ্বংস করতে পারে। জেনেটিক রিকমবিনেশনের মাধ্যমে কয়েক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংমিশ্রণে তৈরি করা হয় ব্যাকটেরিয়াল ককটেল। অতীতে চিকিৎসাক্ষেত্রে বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে কিংবা ব্যাকটেরিয়াবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক তৈরিতে সফলভাবে ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি নিউজ হাঙ্গেরিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে লিজ মাদারাস জানিয়েছেন, তাদের উদ্ভাবিত এ ব্যাকটেরিয়াল ককটেল প্লাস্টিকের আণুবীক্ষণিক গঠনকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলে। এরপর সেটি প্লাস্টিকের উপাদানকে আক্রমণের মাধ্যমে একে গ্রাস করে ফেলে। মূলত এ ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেল প্লাস্টিকের অভ্যন্তরে থাকা কার্বনকে একমাত্র কার্বনের উৎস হিসেবে ব্যবহার করে মেটাবলিজম প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

লিজ মাদারাস বলেন, তাদের উদ্ভাবিত এ ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে কোনো প্লাস্টিকজাতীয় পদার্থকে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। কম্পোস্টিং পাইলগুলোতে যেভাবে জৈববর্জ্যের সংশ্লেষ করা হয় ঠিক একইভাবে এ প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে প্লাস্টিক ধ্বংস করা হবে বলে তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও তিনি পুনঃব্যবহার যোগ্য ও পরিবেশবান্ধব বায়োপ্লাস্টিক তৈরির ধারণা দিয়েছেন।

বুদাপেস্ট ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি অ্যান্ড ইকোনোমিবসে মাস্টার্সে অধ্যয়নকাল থেকে তারা প্লাস্টিক দূষণরোধে কার্যকরি ব্যাকটেরিয়া উদ্ভাবনে একটি যৌথ প্রকল্প হাতে নেন। তাদের এ প্রকল্পের নাম দেয়া হয় পলিলুপ।

লিজ মাদারাসের সহযোগী গবেষক ক্রিস্টিনা লেভাই বলেন, ‘পুরো গবেষণা প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার আমরা নিজেরাই বহন করেছি। ছুটির দিনগুলোতে ল্যাবে এসে আমরা আমাদের গবেষণা কার্যক্রম চালাতাম এবং প্রায় দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে এ রকম একটি সাফল্য সত্যি আমাদের জন্য বড় অর্জন।’

বর্তমানে যদিও স্বল্প পরিসরে এ ধরনের ব্যাকটেরিয়াল ককটেল ব্যবহার করা হয়েছে, তবে ভবিষ্যতে বৃহত্তর পর্যায়ে বিশেষত শিল্প-কারখানায় তাদের উদ্ভাবিত এ জৈবপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে তারা আশাবাদী।